নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় যুবক শুভকে অপহরণ করে হত্যার ঘটনায় জড়িত অন্যতম আসামি মো. আল আমিন ইসলাম ওরফে ‘লাল শুভ’ (২৪)-কে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১।
র্যাব জানায়, ‘বাংলাদেশ আমার অহংকার’ এই স্লোগান নিয়ে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, জঙ্গি দমন, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারসহ বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের আসামিদের গ্রেফতারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে র্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত শুভ (২১) পেশায় একজন এসি মেকার ছিলেন। প্রায় ৭ থেকে ৮ মাস ধরে স্থানীয় কিছু বখাটের সঙ্গে তার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। প্রায় ১৫ থেকে ২০ দিন আগে এজাহারভুক্ত ১ নম্বর আসামি রানার সঙ্গে শুভর তর্ক-বিতর্ক হয়। এরপর থেকে রানা ও তার সহযোগীরা শুভকে বিভিন্ন সময় প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল।
গত ২৯ মার্চ ২০২৬ বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে শুভ সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ঢাকেশ্বরী এলাকায় তার শ্বশুরবাড়িতে যান। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে গ্রেফতারকৃত আসামি লাল শুভ তাকে ফোন করে পূর্ব ইসদাইর রেললাইনে যেতে বলে। সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে ফতুল্লা থানাধীন ইসদাইর রেললাইন সংলগ্ন ২ নম্বর আসামি কাশেমের ভাঙারি দোকানের সামনে পৌঁছালে লাল শুভসহ অন্যান্য আসামিরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে।
একপর্যায়ে গুরুতর আহত হয়ে শুভ মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আসামিরা তাকে একটি অটোরিকশায় তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তার পরিবার আর কোনো খোঁজ পায়নি।
পরবর্তীতে গত ৩১ মার্চ রূপগঞ্জের কাঞ্চন ব্রিজের নিচ থেকে পুলিশ একটি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার করে। পরে পরিবারের সদস্যরা সেটিকে শুভর মরদেহ হিসেবে শনাক্ত করেন। নিখোঁজের সাত দিন পর শুভর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় বিভিন্ন টেলিভিশন ও প্রিন্ট মিডিয়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
হত্যাকাণ্ডের পরপরই জড়িতদের গ্রেফতারে র্যাব-১১ গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-১১ সিপিএসসি এবং র্যাব-১৩ রংপুরের একটি যৌথ দল ৬ এপ্রিল ২০২৬ ভোর আনুমানিক ৩টা ৩০ মিনিটে নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ থানার গাড়াগ্রাম জুম্মারপাড় এলাকা থেকে আসামি মো. আল আমিন ইসলাম ওরফে লাল শুভকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন