রাজনীতির মাঠে যাদের ত্যাগে দল বড় হয়, ক্ষমতার পালাবদল ঘটে—সময়ের আবর্তে সেই লড়াকু কর্মীদের অনেকেরই ঠাঁই হয় স্মৃতির ধুলোবালিতে। তেমনই এক নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির প্রথম সারির মাঠের নেতা বিল্লাল হোসেন।
রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালের ছায়াসঙ্গী। অথচ জীবনের শেষ মুহূর্তগুলো তাকে কাটাতে হয়েছে চরম অর্থকষ্ট আর অবহেলায়।
নারায়ণগঞ্জের গোগনগর ইউনিয়নের সুকুমপট্টি এলাকায় বিল্লাল হোসেনের মাথা গোঁজার একমাত্র ঠাঁই ছিল একতলার একটি আধাপাকা ঘর। কিন্তু অভাবের তাড়নায় সেই ঘরের ওপর ছাদ দেওয়ার সামর্থ্য ছিল না পরিবারটির। দীর্ঘ সময় ধরে পলিথিন দিয়ে ছাদের কাজ চালিয়ে আসছিলেন তারা। রোদ-বৃষ্টির সঙ্গে লড়াই করেই কাটছিল বিল্লাল ও তার পরিবারের জীবন।
বিল্লাল হোসেন যখন মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী ছিলেন, তখন রাজনৈতিক সহকর্মী বা দলের বড় নেতাদের কাউকেই পাশে পাননি বলে জানান তার স্ত্রী সোনিয়া বিল্লাল। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, দলের জন্য আজীবন নিবেদিতপ্রাণ থাকলেও শেষ সময়ে এটিএম কামাল ছাড়া আর কেউ তাদের খোঁজ নেননি। বিনা চিকিৎসায় ধুঁকে ধুঁকেই বিল্লাল পরপারে পাড়ি জমান।
বিল্লাল মারা গেলেও তার পরিবারের করুণ অবস্থার কথা ভোলেননি এটিএম কামাল। গত সংসদ নির্বাচনের সময় দেশে এসে তিনি যখন বিল্লালের বাড়িতে যান, তখন পলিথিনে মোড়ানো সেই জীর্ণ ঘর দেখে স্তব্ধ হয়ে যান। সম্প্রতি তিনি আবারও বিদেশে ফিরে গেলেও ভুলে যাননি প্রয়াত সহকর্মীর পরিবারের কথা।
দূর প্রবাসে থেকেও তিনি এই অসহায় পরিবারটির ঘর নির্মাণের জন্য প্রাথমিক সহায়তা হিসেবে ৫০ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন। শুধু তাই নয়, বিল্লালের স্ত্রী সোনিয়ার চিকিৎসার দায়িত্বও নিয়েছেন তিনি। প্রয়োজন হলে ঘর নির্মাণের বাকি কাজের জন্য আরও আর্থিক সহায়তা দেবেন বলেও আশ্বাস দিয়েছেন।
ব্যক্তিগত মমত্ববোধ ও সহমর্মিতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এটিএম কামাল। বিল্লালের স্ত্রী সোনিয়া বিল্লাল এখন এই সহায়তায় ঘরের ছাদে ঢালাই দেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। রাজনীতির মাঠে সহযোদ্ধার বিদায়ে তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এই উদ্যোগ এলাকায় প্রশংসিত হচ্ছে।
অনেকেই মনে করছেন, মাঠের নিবেদিত কর্মীদের প্রতি এমন ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা বর্তমান সময়ে বিরল। বিল্লাল হোসেন হয়তো শান্তিতে ঘুমাচ্ছেন এই ভেবে যে, তার অসমাপ্ত ঘরের ওপর অবশেষে একটি স্থায়ী ছাদ হতে যাচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল বলেন,
“বিল্লাল বিএনপির নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ছিল। আমরণ সে দলের দুঃসময়ে যে ভূমিকা রেখেছে, তা আমি কখনও ভুলতে পারবো না। সে আমার ঘনিষ্ঠ সহকর্মী ছিল এবং সবসময় আমার সঙ্গে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন,
“বিল্লাল ইন্তেকাল করেছে, তার কোনো সন্তান নেই। তার স্ত্রী মানবেতর জীবন যাপন করছে। তার ঘরটি জরাজীর্ণ ছিল। তার স্ত্রী আমাকে বলেছিল ঘরটি ঠিক করে দিতে। আমি আমার সামান্য সামর্থ্য দিয়ে সেই ব্যবস্থা করেছি। তার চিকিৎসা ও ওষুধপত্রের জন্যও সহায়তা করছি। বিল্লালের মতো কর্মীদের খোঁজখবর আমাদের সবার রাখা উচিত।”
মন্তব্য করুন