যুবদল নেতা রাসেল সরকারকে ১৫ ট্রাক মাটি না দেওয়াকে কেন্দ্র করে হামলা ও মামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন হোসেন শান্ত। রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে তিনি এ অভিযোগ করেন। এর আগে দুপুরে তিনি এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন।
আল আমিন হোসেন শান্ত তার বক্তব্যে বলেন, তার বাসার সামনে সোয়ারেজ লাইনের কাজ চলছিল এবং এ কাজে তিনি ও তার কয়েকজন সহযোগী যুক্ত ছিলেন। কাজের জন্য ভেকু ও ট্রাক ভাড়া করে মাটি অপসারণ করা হচ্ছিল। একপর্যায়ে যুবদল নেতা রাসেল সরকার তার কাছে ১৫ গাড়ি মাটি দাবি করেন। তার সহযোগী হাসান মাটির বিনিময়ে অর্থ দাবি করলে রাসেল সরকার ক্ষিপ্ত হয়ে কাজ বন্ধ করে দিতে চান। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়।
শান্ত বলেন, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় মুরুব্বিরা তাকে বাসায় চলে যেতে বলেন। তিনি বাসায় চলে যান। তবে কিছু সময় পর রাসেল সরকার ৪০ থেকে ৫০ জন লোক নিয়ে তার বাসার নিচে অবস্থান নেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় রাজু নামে এক ব্যক্তি তার বাসায় গিয়ে তাকে নিচে নামার জন্য বলেন এবং জানান, বিষয়টি মীমাংসার জন্য তাকে ডাকা হয়েছে।
তিনি জানান, সন্দেহ হলে তিনি তার ব্যবসায়িক অংশীদার আরিফের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আরিফ তাকে বাসা থেকে বের না হওয়ার পরামর্শ দেন। এরপরও পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ মনে হওয়ায় তিনি কিছু লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলের দিকে যান।
শান্তের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে তার ছোট ভাইকে লক্ষ্য করে রবিউল নামে এক ব্যক্তি ডেকে নেয় এবং কথোপকথনের একপর্যায়ে রাজু এসে তার ভাইয়ের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তার ভাইয়ের সঙ্গে থাকা পিঙ্কি নামে এক ব্যক্তি আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে রাসেল সরকার একটি ফুলদানি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে পিঙ্কির মাথা ফেটে যায়।
তিনি দাবি করেন, সংঘর্ষের সময় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না এবং কাছাকাছি স্থানে অন্যত্র ছিলেন। পরে মারামারির খবর পেয়ে তিনি আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যান।
ঘটনার পর তিনি থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার পরামর্শ দেয় বলে অভিযোগ করেন শান্ত। পরে রাতে রাসেল সরকার বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এনে থানায় চাপ সৃষ্টি করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন বলেও দাবি করেন তিনি।
বর্তমানে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন উল্লেখ করে শান্ত বলেন, তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ‘সাকিব’ নামে একজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে মিথ্যা আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন