নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিয়ের নাটক সাজিয়ে দুই বছর সংসার করার পর বিপুল পরিমাণ টাকা ও স্বর্ণ অলংকার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী আবীর হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শ্রাবন্তী আক্তার গত ৪ এপ্রিল ২০২৬ রাজধানীর গেন্ডারিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আবীর হোসেন নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার ফতুল্লা ইউনিয়নের পূর্ব চরগরকুল গ্রামের বাসিন্দা। তিনি প্রেমের অভিনয় করে শ্রাবন্তী আক্তারকে বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে যাওয়ার প্রস্তাব দেন এবং একপর্যায়ে শারীরিক সম্পর্কের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। এতে রাজি না হলে আবীর তার আত্মীয়ের বাসায় হুজুর ও সাক্ষী ডেকে বিয়ের নাটক সাজান। এরপর গত দুই বছর ধরে তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করে আসছিলেন।
ভুক্তভোগী শ্রাবন্তী আক্তার জানান, বিয়ের পর বিভিন্ন সময়ে আবীর তার কাছ থেকে ১৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং প্রায় আট ভরি স্বর্ণ অলংকার হাতিয়ে নেন। টাকা নেওয়ার পর থেকেই তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন শুরু হয়। গোপন সূত্রে জানা যায়, আবীরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে এবং তিনি এলাকায় চিহ্নিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আবীরের এই অপকর্মে তার মামা শামীম সহযোগিতা করছেন। এছাড়া শ্রাবন্তীকে ভয়ভীতি দেখানো ও হয়রানির ঘটনায় জনৈক চিকিৎসক খালেক সাইফুল ফয়সালের নামও উঠে এসেছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, গত ৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে গেন্ডারিয়া থানার সামনে মিলব্যারাক মাজার সংলগ্ন এলাকায় আবীর ধারালো ছুরি নিয়ে তার ওপর হামলার চেষ্টা করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এ ঘটনার পর নিরুপায় হয়ে তিনি গেন্ডারিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছেন এএসআই মাসুদ।
সর্বস্ব হারিয়ে এবং প্রাণনাশের ভয়ে এখন দিশেহারা শ্রাবন্তী আক্তার। তিনি এই চিহ্নিত সন্ত্রাসীর হাত থেকে রক্ষা পেতে এবং তার পাওনা টাকা ও স্বর্ণ অলংকার উদ্ধারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মন্তব্য করুন