দেশে এলএনজি সরবরাহের একটি ভাসমান টার্মিনাল কারিগরি কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এতে ঢাকাসহ তিতাস গ্যাসের আওতাধীন বিস্তীর্ণ এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপ দেখা দিচ্ছে।
মঙ্গলবার এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড জানিয়েছে, আরএলএনজি সরবরাহের একটি ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) কারিগরি কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশে গ্যাস সরবরাহ প্রায় ৪০০ এমএমসিএফডি (মিলিয়ন ঘনফুট প্রতিদিন) কমে গেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই পরিস্থিতির ফলে গজারিয়া, মেঘনা ঘাট, সোনারগাঁ, নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার দক্ষিণাংশসহ তিতাস গ্যাসের অধিভুক্ত সমগ্র এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করবে। এতে আবাসিক গ্রাহক ও সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাস সরবরাহে ভোগান্তি বাড়তে পারে।
তবে কখন থেকে এ পরিস্থিতি শুরু হয়েছে, কত সময় স্থায়ী হতে পারে বা কবে নাগাদ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে—সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি। সাময়িক এই অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।
বিদেশ থেকে তরল অবস্থায় আমদানি করা প্রাকৃতিক গ্যাসকে এলএনজি বলা হয়। এই এলএনজিকে পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর করলে তাকে রিগ্যাসিফায়েড লিকুইফাইড ন্যাচারাল গ্যাস (আরএলএনজি) বলা হয়। জাহাজ থেকে এলএনজি খালাস, সংরক্ষণ এবং পুনরায় গ্যাসে রূপান্তরের কাজ করে সমুদ্রে ভাসমান এফএসআরইউ বা এলএনজি টার্মিনাল।
বাংলাদেশে প্রথম এলএনজি আমদানি টার্মিনাল চালু হয় ২০১৮ সালে কক্সবাজারের মহেশখালী এলাকায়। ওই টার্মিনালের দৈনিক পুনর্গ্যাসীকরণ সক্ষমতা প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট। পরে একই ধরনের আরও একটি টার্মিনাল চালু করা হয়, যার সক্ষমতাও প্রায় সমান।
এতদিন দুটি এফএসআরইউ থেকে দৈনিক প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছিল। তবে একটি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ এখন প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
ফলে ঢাকাসহ আশপাশের বড় এলাকাজুড়ে বাসাবাড়ি ও সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাস সংকট আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন