পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় সংঘটিত এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে নিহত উজ্জ্বল কর্মকারের পরিবারে নেমে এসেছে শোক ও অনিশ্চয়তার ছায়া। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি উজ্জ্বল কর্মকারের মৃত্যুতে তার স্ত্রী, কন্যা ও বৃদ্ধ মা মানবেতর জীবনযাপনের শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।
গত মঙ্গলবার বিকেলে বাউফল উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরওয়াডেল এলাকায় এ নির্মম ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই পরিবারটি চরম অসহায় অবস্থায় পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে এমপির পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল নিহতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের খোঁজখবর নেয়। এসময় ভিডিও কলে সরাসরি কথা বলেন ড. মাসুদ। তিনি নিহতের একমাত্র কন্যা, স্ত্রী ও মায়ের সঙ্গে কথা বলে তাদের সান্ত্বনা দেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।
এমপি ড. মাসুদ নিহতের কন্যার পড়াশোনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেন। পাশাপাশি, নিহতের স্ত্রী মিনা রানী দাসের শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী একটি চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন। এ সময় পরিবারের জন্য নগদ আর্থিক সহায়তাও প্রদান করা হয়।
নিহত উজ্জ্বল কর্মকারের চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া কন্যা অঙ্কিতা এমপির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের এই শোকের সময় তিনি আমাদের খোঁজ নিয়েছেন এবং দায়িত্ব নিয়েছেন—এটা আমাদের জন্য অনেক বড় বিষয়।” একইভাবে, স্ত্রী মিনা রানী দাস বলেন, “আমার ভবিষ্যৎ জীবনের কথা ভেবে এমপি মহোদয় যেভাবে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন, তা কখনো ভুলবো না।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার সময় যারা উজ্জ্বলের সঙ্গে ছিলেন, তারা এখন পর্যন্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াননি। এমনকি একটি ফোন কলের মাধ্যমেও সমবেদনা জানানো হয়নি, যা এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
এদিকে, এলাকাবাসী উজ্জ্বল কর্মকার হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার দাবি করেছেন। তারা দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আহ্বান জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন