ধর্ষণের পর নির্মম হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত; ১৬ সাক্ষীর জবানবন্দি ও আলামতে সন্তুষ্ট আদালত
বহুল আলোচিত শিশু রামিসা হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এ রায় ঘোষণা করা হয়। মামলার বিচারিক কার্যক্রমে ১৬ জন সাক্ষীর জবানবন্দি ও জেরা গ্রহণ করা হয়।
মামলার বাদী ও নিহত রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার সাক্ষ্যের মধ্য দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। পরবর্তীতে নিহতের মা পারভীন আক্তার, বড় বোন রাইসা আক্তার (ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে), স্বজন, প্রতিবেশী, সুরতহাল প্রস্তুতকারী পুলিশ কর্মকর্তা, ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক এবং তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৬ জন সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দেন। সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালে হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহ বর্ণনায় আদালতকক্ষে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
আদালতে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী কর্মকর্তা এসআই মো. ইকবাল হোসেন জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি ওড়না উদ্ধার করা হয়, যা দিয়ে শিশুটির মুখ বেঁধে নির্যাতন চালানো হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে আসে। তিনি আরও জানান, আসামিদের শয়নকক্ষের খাটের নিচে মাথাবিচ্ছিন্ন অবস্থায় রামিসার মরদেহ এবং একটি পানির বালতির ভেতর থেকে তার কাটা মাথা উদ্ধার করা হয়।
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. নাসাদ জাবিন আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে বলেন, নিহত শিশুর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। ময়নাতদন্ত, ফরেনসিক ও ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে মৃত্যুর আগে তাকে ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া যায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে মাথা বিচ্ছিন্ন করার ফলে তার মৃত্যু হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান আদালতে বলেন, ঘটনার পর নিহতের মা ও স্থানীয়রা ফ্ল্যাটের বাইরে থেকে দরজা খোলার অনুরোধ করলেও আসামিরা কোনো সাড়া দেয়নি। তদন্তে জানা যায়, তারা ঘটনাস্থলের বিভিন্ন আলামত নষ্ট করারও চেষ্টা করেছিল।
সব সাক্ষ্য-প্রমাণ, ফরেনসিক প্রতিবেদন ও তদন্তের তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা শেষে আদালত সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত রামিসার স্বজনরা এবং তারা দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন