ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মৈচাক চিটাগাং রোড এলাকায় অটোরিকশার বেপরোয়া চলাচল এবং উল্টো পথে গাড়ি চালানোর কারণে প্রতিনিয়ত বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা। গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করলেও ট্রাফিক শৃঙ্খলার অভাব এবং নিয়ম না মানার প্রবণতা পরিস্থিতিকে দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের অভিযোগ, মৈচাক এলাকায় অটোরিকশাগুলো কোনো ধরনের নিয়মকানুন না মেনেই যাত্রী ওঠানামা করছে। বিশেষ করে উল্টো পথে চলাচল, হঠাৎ রাস্তার মাঝখানে থেমে যাত্রী তোলা এবং দ্রুতগতিতে ওভারটেক করার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে। এতে সাধারণ যাত্রী ও পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গত কয়েক মাসে এই এলাকায় ছোট-বড় বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অনেক ক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে উঠছে। তবে এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী জানান, “প্রতিদিনই দেখি অটোরিকশাগুলো উল্টো পথে এসে হঠাৎ সামনে পড়ে যাচ্ছে। এতে বড় যানবাহনের চালকরা হিমশিম খেয়ে যায়, আর তখনই দুর্ঘটনা ঘটে।” তিনি আরও বলেন, “ট্রাফিক পুলিশ মাঝে মাঝে অভিযান চালালেও তা স্থায়ী সমাধান দিতে পারছে না।”
বাসচালক ও ট্রাকচালকদের অভিযোগ, মহাসড়কে ধীরগতির যানবাহনের জন্য আলাদা লেন না থাকায় অটোরিকশাগুলো মূল সড়কেই চলাচল করছে। ফলে দ্রুতগতির যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়ছে। অনেক সময় অটোরিকশা চালকরা ট্রাফিক সিগন্যাল বা নির্দেশনাও মানেন না।
এ বিষয়ে ট্রাফিক বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, “মৈচাক এলাকায় শৃঙ্খলা ফেরাতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানা করা হচ্ছে। তবে সচেতনতার অভাব বড় একটি সমস্যা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু আইন প্রয়োগ নয়, পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি, আলাদা লেন ব্যবস্থা চালু এবং নিয়মিত মনিটরিং জোরদার করা জরুরি। অন্যথায় এই ধরনের দুর্ঘটনা কমানো কঠিন হবে।
এদিকে, দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত যাত্রীরা। তারা মনে করছেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযানই হতে পারে দুর্ঘটনা কমানোর অন্যতম উপায়।
মন্তব্য করুন