দেশের বাজারে আবারও বাড়লো রান্নার জ্বালানি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এর দাম। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক লাফে ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে ১ হাজার ৭২৮ টাকা, যা গত মাসে ছিল ১ হাজার ৩৪১ টাকা।
বৃহস্পতিবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ এ নতুন মূল্য ঘোষণা করেন। নতুন এই দর অনুযায়ী, প্রতি কেজি এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪৪ টাকা, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
হিসাব অনুযায়ী, এক মাসের ব্যবধানে এলপিজির দাম প্রায় ২৮ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি প্রভাব ফেলবে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায়, বিশেষ করে শহর ও শহরতলীর নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর, যারা রান্নার জন্য এলপিজির ওপর নির্ভরশীল।
বিইআরসি জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি Saudi Aramco নির্ধারিত ‘কন্ট্রাক্ট প্রাইস’ (সিপি) এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের ওঠানামার ভিত্তিতে প্রতি মাসে এলপিজির মূল্য সমন্বয় করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির ফলে এই সমন্বয় করা হয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এলপিজির এমন আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধি বাজারে নিত্যপণ্যের দামেও প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, হোটেল-রেস্তোরাঁসহ ছোট ব্যবসাগুলোতে এলপিজি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। ফলে পরিবহন ও খাদ্য খরচ বেড়ে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে।
এ অবস্থায় ভোক্তাদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ভর্তুকি বা সহায়তা দেওয়া হবে কিনা, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের দিকে নজর দেওয়া জরুরি হয়ে পড়ছে।
সর্বশেষ এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে এলপিজি নির্ভর পরিবারগুলোর ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন