Ultimate magazine theme for WordPress.

স্কুল ছাত্রী ধর্ষনের পর হত্যা করে মাটি চাপা দেয়া মামলার আসামী সুমন চন্দ্র দাসের স্বীকারাক্তিমুলক জবাববন্দি প্রদান

দিনাজপুর প্রতিনিধি


দিনাজপুরের কাহারোলে স্কুল ছাত্রী জাকিয়া আক্তার (১১) কে ধর্ষন ও পরে হত্যা করে মাটি চাপা দেয়া মামলার এক মাত্র আসামী সুমন চন্দ্র দাস (৩৩) আদালতে স্বীকারাক্তি মুলক জবানবন্দি প্রদান করেছে ।

আজ রবিবার দিনাজপুর গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই আশরাফুজ্জামান নিশ্চিত করে বলেন , গত শনিবার সন্ধ্যায় এই মামলা একমাত্র আসামী সুমন চন্দ্র দাস দিনাজপুর আমলী আদালত -৩ এর বিচারক শারমিন আক্তারের সামনে স্কুল ছাত্রীকে প্রথমে ধর্ষণ ও পরে হত্যার ঘটনার স্বীকারাক্তিমুলক জবাববন্দি প্রদান করেন ।

আটক সুমন চন্দ্র দাশ দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলার বড় পাহাড়পুর শাহাপাড়ার জগদীশ চন্দ্র দাশের ছেলে ।

এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আশরাফুজ্জামান আরোও বলেন , এই ঘটনার পর থেকেই ডিবি পুলিশ অপরাধের ধরন দেখে ৪৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন কিন্তু কোন কুল কিনারা পাচ্ছে না । এরই এক পর্যায়ে নিহত স্কুল ছাত্রী জাকিয়ার দাদীর কাছে জানতে পারে পাশর্^বতী গ্রামের বড় পাহাড়পুর শাহাপাড়ার জগদীশ চন্দ্র দাশের ছেলে সুমন চন্দ্র দাস প্রায়ই স্কুল জাকিয়াকে উত্যক্ত করত । সেই কথার সুত্র আর আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেই সুমন চন্দ্র দাসকে গত ৬ জুলাই রাতে সন্দেহ ভাজন হিসাবে পুলিশ তার নিজ বাড়ী থেকে আটক করে । পরের দিন আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয় । দিনাজপুর আমলী আদালত -৩ এর বিচারক শারমিন আক্তার ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ।

নাম প্রকাশে অনি”ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দির উদ্বৃতি দিয়ে বলেন, নিহত জাকিয়া যে সময় প্রাইভেট পড়তে যান ঠিক সেই সময় স্থানীয় তরলা বাজার থেকে জাকিয়ার রাস্তার দিকে আসছিলেন সুমন। দুপুর ৩টা ৪০মিনিটে জাকিয়ার সাথে তার মুখোমুখি দেখা হয় বিলের রাস্তায়। সুমন প্রথমে জাকিয়ার মুখ চেপে ধরে পাটক্ষেতের ভিতরে নিয়ে যায়। এরপর পকেট থেকে দঁড়ি বের করে মুখ ও হাত-পা বেধে তার শ্লীলতাহানি করে। জাকিয়া অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাকে মৃত ভেবে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ফেলে রেখে বাড়িতে উল্টো রাস্তা ধরে বাড়িতে ফিরে আসে।

এদিকে সন্ধ্যার পরেও যখন জাকিয়া বাড়ি ফিরতেছিলো না তখন পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে শুর“ করে। তার শিক্ষকের বাড়িতেও যায়। রাত ১২টা পর‌্যন্ত বিল এলাকায় খোঁজাখুঁজি করে পরিবারের লোকজন। জাকিয়ার বাড়ির পরিস্থিতি বুঝতে ছেলের জন্য তেল পড়া নেবার অজুহাতে জাকিয়াদের বাড়ির পাশে বাংড়ু কবিরাজের বাড়িতে যায় সুমন। পরে সেখান থেকে অন্য আর এক কবিরাজের বাড়িতে যায়। সেখান থেকে ফিরে আসে রাত সাড়ে ৯টায়। রাত ১২টার সময় বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে পড়লে আবারো বের হয় সে। কিন্তু ঘটনাস্থরের আশেপাশে তখনো পরিবারের লোকজন খুঁজতে ছিলো। দূর থেকে টর্চের আলো দেখে সুমন। আরও কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে।

পরে রাত ৩টার সময় ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরে একজনের বাড়ি থেকে কোদাল নিয়ে আসে। ঘটনাস্থলে পাটক্ষেতের ভিতরে গর্ত খুঁড়ে জাকিয়াকে মাটি চাপা দিয়ে বাড়িতে ফিরে আসে। তবে মাটি চাপা দেবার সময়ও জাকিয়ার শ্বাস-প্রশ্বাস চলছিলো। পরে সুমন তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

উল্লেখ যে গত ৪রা জুলাই দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলার ২নং রসুপুল ইউনিয়নের বনড়া গ্রামের একটি বিলের পাশে থেকে মাটি চাপা দেওয়া জাকিয়া আক্তার (১১) নামে চতুর্থ শ্রেনীতে পড়–য়া এক ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ ।

নিহত স্কুল ছাত্রী কাহারোল উপজেলার ৩নং তারগাঁও ইউনিয়নের পাহাড়পুর গ্রামের সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলমের কন্যা জাকিয়া আক্তার। সে একই উপজেলার বাসুদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্রী।

Leave A Reply

Your email address will not be published.