Ultimate magazine theme for WordPress.

নবাবগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে গালিগালাজ ও ঘুষখোর দুর্নীতিবাজ বলার অভিযোগে তদন্ত কমিটি


দিনাজপুর প্রতিনিধি (সুলতান মাহমুদ) : দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার সদ্য বিদায়ী ইউএনও কে ‘ঘুষখোর’ ‘দুর্নীতিবাজ’সহ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, অবৈধভাবে খাস জমির গাছ কর্তন এবং উৎকোচের বিনিময়ে গাছ চোরকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে চরকাই রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জার নিশিকান্ত মালাকারের বিরুদ্ধে তিন সদস্য বিশিষ্ঠ দুইটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিমেষ সোম।

আজ বৃহস্পতিবার নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার দুটি তদন্ত কমিটি গঠনের সংবাদ নিশ্চিত করেছেন ।
তদন্ত কমিটিকে চিঠি দেওয়ার সূত্রে জানা যায়, নবাবগঞ্জে সদ্য বিদায়ী ইউএনও নাজমুন নাহারকে গালিগালাজের অভিযোগে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে আহবায়ক এবং সমাজসেবা কর্মকর্তাকে সদস্য সচিব করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। খাস জমিতে অবৈধভাবে গাছ কাটা এবং উৎকোচের বিনিময়ে গাছচোরকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগের ঘটনায় সহকারি কমিশনার (ভূমি) আল মামুনকে আহবায়ক এবং উপজেলা সমবায় কর্মকর্তাকে সদস্য সচিব করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুই তদন্ত কমিটিকেই পনের কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এর আগে এসব ঘটনায় নিশিকান্ত মালাকারের দ্রুত অপসারণসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়ে গত ৩০ মে জনপ্রসাসন মন্ত্রী, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী, দিনাজপুর-৬ আসনের সাংসদ, জেলা প্রশাসক ও ইউএনও এর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানসহ ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, গত ২৮ মে বিকেল ৪ টার দিকে চরকাই রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জার নিশিকান্ত মালাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার ঠিকাদার মো. মতিবুর রহমানের মুঠোফোনে কল দিয়ে সদ্য বিদায়ী ইউএনও নাজমুন নাহার “ঘুষ খোর, দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা” সহ বিভিন্ন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।

লিখিত অভিযোগ আরো উল্লেখ করা হয়, নিশিকান্ত মালাকার ১৯৯০ সালে বন বিভাগের চাকুরিতে যোগদান করেন। এর মধ্যে চরকাই রেঞ্জের বিভিন্ন বিটেই একটানা প্রায় ১২ বছর চাকুরি করছেন। নিশিকান্ত মালাকারের বিরুদ্ধে অবৈধ ইটভাটার কাছ থেকে ঘুষ আদায়, ঘুষের বিনিময়ে বনের জায়গা অন্যকে দখলে দেয়া, বন উজাড়, গাছ চোরকে ছেড়ে দেয়াসহ ব্যপক অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি নবাবগঞ্জ উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের ভেবগগাড়ি মৌজায় ১ নং খতিয়ানে ৪৩, ৪৫ এবং ৫২ দাগে মোট ১১ একর জমিতে লাগানো বিপুল পরিমান আকাশমনি গাছ রাতের আঁধারে চারকাই রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জার নিশিকান্ত মালাকারের নেতৃত্বে একটি সংঘবন্ধ চক্র কেটে নিয়ে যায়। এবছর ২৯ এপ্রিল রাতে উপজেলার ভাদুরিয়া বিটের অধিন দরগার বাগান (কাঠালের চড়া) এলাকায় গাছ চুরির সময় উপকারভোগীরা হাতে নাতে মিলন নামের এক চোরকে আটক করে। ভাদুরিয়া বিট কর্মকর্তা নুরুল হুদা রাতেই মিলনকে রেঞ্জ কার্যালয়ে সোপর্দ করে। পরে রেঞ্জ কর্মকর্তা নিশিকান্ত মালাকার ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়।

বিদায়ী ইউএনও নাজমুন নাহার জানান, তিনি নবাবগঞ্জে যোগদান করার নিশিকান্ত মালাকার বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধা চাইতেন। তিনি এতে সম্মতি দেননি। সম্পতি তিনি নতুন সম্ভাবনার পর্যটন কেন্দ্র আশুড়ার বিল বেষ্ঠিত জাতীয় উদ্যানে নিশিকান্ত মালাকের ইন্দনে গাছ চুরির অভিযোগ পান তিনি। এটি বন্ধ করতে এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ ব্যারক নির্মাণের উদ্যোগ নেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন নিশিকান্ত মালাকার।

খাস জমিতে গাছ কাটার বিষয়ে উপজেলা সহকারি কমিশনার ভূমি আল মামুন জানান, সরকারি খাস জমিতে গাছ কাটার বিষয়ে ফরেস্ট প্রশাসনের কাছে কোন অনুমতি নেননি।

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিমেষ সোম দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার সদ্য বিদায়ী ইউএনও কে ‘ঘুষখোর’ ‘দুর্নীতিবাজ’সহ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, অবৈধভাবে খাস জমির গাছ কর্তন এবং উৎকোচের বিনিময়ে গাছ চোরকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে দুটি তদন্ত কমিটি গঠনের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.