Ultimate magazine theme for WordPress.

কোরবানীর জন্য দিনাজপুর জেলায় ফ্রিজিয়ান জাতের সবচেয়ে বড় গরুর ওজন ২৫

(সুলতান মাহমুদ) দিনাজপুর প্রতিনিধি


কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দিনাজপুর সদরে প্রাকৃতিক উপায়ে মোটাতাজা করে বিভিন্ন জাতের গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। এদের মধ্যে ফ্রিজিয়ান জাতের একটি গরুর নাম রাখা হয়েছে ”ত্যাগ’ । ’ত্যাগ’ গরুর নাম রাখার কারন হল কোরবানী মানেই হল আল্লাহ নামে ত্যাগ করা ।

প্রায় ২৫ মণ ওজনের ফ্রিজিয়ান জাতের ষাড়টি নাম নির্ধারন করা হয়নি । বিশাল এই গরুটির নিদিষ্ট দাম রাখা না হলেও ক্রেতা একটা ন্যায্য মুল্য দিয়েই ক্রতা ক্রয় করবেন এমন প্রত্যাশা গরুর মালিক। দিনাজপুর শহর থেকে ৯ কিলোমিটার উত্তর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় । বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন পশ্চিম দিকে উত্তর গোবিন্দপুর গ্রাম। এই গোবিন্দপুর গ্রামটিতেই নিজ বাড়ীতে আকবর আলী শখের বসত হয়ে ছোট একটি গরুর ফার্ম গড়ে তুলেছেন ।

গরুর ফার্মের মালিক আকবর আলী দিনাজপুর জেলা সদরের গোবিন্দপুর গ্রামের মুত মুসা হকের ছেলে । আকবর আলীর গরুর ফার্মের দেখা শুনা করেন তার স্ত্রী নাছিমা বেগম । আকবর আলীর খামারের সাদা-কালো রঙের এই গরুর নাম ’ত্যাগ’। যেহেতু গরুটি কুরবানীর জন্য প্রস্থুত করা হয়েছে তাই মহান সৃষ্টি কর্তা আল্লাহর কে রাজি খুজির জন্য কুরবানী করা হয় তাই বিশাল আকৃতির গরুর নাম রাখা হয়েছে ত্যাগ । বিশাল আকৃতির গরুটির ওজন ২৫ মণ ।

ফ্রিজিয়ান জাতের ত্যাগের উচ্চতা পাঁচ ফুট চার ইঞ্চি, লম্বায় সাড়ে ১১ ফুট। আর কালচে লাল রঙের পাকিস্তানি সিন্ধি জাতের গরুটির উচ্চতা ছয় ফুটের একটু ওপরে, লম্বা নয় ফুটের মতো। জেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় ফ্রিজিয়ান জাতের গরুর ২৫ মণের অধিক বা এক হাজার ১ শত কেজি ওজনের এই ত্যাগের দাম হাঁকা হয়েছে ৭ লাখ টাকা।

জেলার মধ্যেই সবচেয়ে বড় ফ্রিজিয়ান জাতের গরুটি দেখার জন্য প্রতিদিনই ভীর জমা”েছ প্রতিবেশিরা । বিশাল আক্রতির ফ্রিজিয়ান জাতের গরুটিকে দেখতে হয় দুর থেকে । কাছাকাছ গেলেই শো শো শব্দ করে ।

আকবর আলীর স্ত্রী নাছিমা বেগম জানান , আমার বাড়ীতেই ছোট একটি গরুর ফার্ম তৈরী করা হয়েছে । ফ্রিজিয়ান জাতের গরুটিসহ আরোও চারটি গরু আছে । গরুগুলিকে আমিই দেখাশুনা করি । ফ্রিজিয়ান জাতের গরুটি আমার সন্তানের মত লালন পালন করছি । গরুটিকে নিয়ম করেই খাবার খাওয়ানো হ”েছ । অন্যন্যা মানুষ দেখলেই ফ্রিজিয়ান গরুটি রেগে যায় । আর আমি যেহেতু লালন পালন করছি তাই গরুটিও আমাকে দেখলেই শান্ত হয়ে যায় । ভুষি, ডালি, ভুট্টা, খৈল, ঘাস ও খড় খাওয়ানো হয় গর“গুলোকে। আদর-যতেœ গর“গুলো বেড়ে উঠছে। ত্যাগের ওজন প্রায় এক হাজার ১০০ কেজি হবে। যা সাধারণ দেশি গর“র চেয়ে ১০ গুণ বেশি।

খামারি আকবর আলী বলেন, দুই বছর আগে আমার খামারের ফ্রিজিয়ান জাতের সাদা-কালো এই বাছুরটি নিজ বাড়ী নিয়ে আসেন । এখন তার বয়স চার বছর। এর পরের বছর পাকিস্তানি সিন্ধি ও ব্রাহাম জাতের দুটি বাছুরও কেনা হয়। এরপর থেকেই সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতি ও প্রাকৃতিক খাবারের মাধ্যমে যতœ সহকারে লালন-পালন করছি। সাদা-কালো রঙের ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড়টির নাম দিয়েছি ত্যাগ । অন্য জাতের গরুর নাম রাখা হয়নি । নিজের জমিতে নেপিয়ান জাতের ঘাস , গুড়া ও দানাদার গো খাবার খাইয়ে মোটাতাজা করা হয়েছে । এ পর্যন্ত ৪টি গরুর খাবারে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ লাখ টাকা।’

দিনাজপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) , ড. আশকা আকবর তৃষা বলেন জেলায় এ বছর ৫৮ হাজার ৫৫ গরুর খামারির মাধ্যমে গরু মোটাতাজা করন কুরবানীর পশু রয়েছে ১ লক্ষ ৯৮ হাজার ৭ শত ৮৩টি । জেলায় চাহিদা রয়েছে ১ লক্ষ ৪৪ হাজার ২ শত ৬৮টি । এই জেলায় থেকে প্রায় আরোও সাড়ে ৫৪ হাজার কুরবানীর পশু দেশের অন্য জেলায় পাঠানো যাবে । আকবর আলীর মত জেলায় অন্যৗা গরু খামারীরাও একেবারেই প্রাকৃতিক ও নির্ভেজাল পদ্ধতিতে ষাঁড়গুলোকে লালন-পালন করেছেন। আকবর আলীর ফ্রিজিয়ান জাতের ষাড়টি দেখতেও দৃষ্টিনন্দন। তবে এবার কোরবানির ঈদে গর“র খামারিদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো বাজারজাত করা। এই ধরনের বড় আকারের ষাঁড় সাধারণত ঢাকাসহ বাইরের ক্রেতারা কিনে থাকেন। কিš‘ এখন পর্যন্ত খামারিরা কোনো সাড়া পা”েছন না। আমরা চেষ্টাই আছি অনলাইনের মাধ্যমে আগ্রহী ক্রেতাদের কাছে পৌঁছাতে। খামারি তাঁর গর“ ঢাকায় নিয়ে যেতে চাইলে ট্রেনের মাধ্যমে পাঠানোরও উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

Leave A Reply

Your email address will not be published.